28 C
Kolkata
Sunday, May 9, 2021

Poila Baisakh 2021: পয়লা বৈশাখের সঙ্গে কিন্তু হালখাতার কোনও সম্পর্ক ছিল না ! জানুন ইতিহাস

Must read

#কলকাতা: হালখাতা। বাঙালির পয়লা বৈশাখের সঙ্গে এই শব্দটি ভীষণভাবে জড়িয়ে। পয়লা বৈশাখের দিন দোকানে দোকানে ব্যবসায়ীরা পুরনো হিসেব চুকিয়ে নতুন খাতায় বছরের হিসেব লেখেন। নতুন বৌনি শুরু হয়। ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই ‘হালখাতা’ শব্দটি। কিন্তু কিভাবে পয়লা বৈশাখের সঙ্গে এর যোগ হল? ইতিহাস কিন্তু অন্য কথাই বলছে। যদিও পয়লা বৈশাখ নববর্ষের প্রথম দিন আমরা অনেকেই বলি হালখাতা। কিন্তু এর সঙ্গে ইতিহাস ঠিক কিভাবে জড়িয়ে? পুরনো কলকাতায় ইংরেজি নববর্ষের উৎসব উপলক্ষে বেশ ঘটা হত। কবি ইশ্বচন্দ্র গুপ্ত ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে লিখছেন, “খৃস্ট মতে নববর্ষ অতি মনোহর। প্রেমাননন্দে পরিপূর্ণ যত শ্বেত নর।/ চারু পরিচ্ছদযুক্ত রম্য কলেবর। নানা দ্রব্যে সুশোভিত অট্টালিকা ঘর।” তবে সে সময় বাংলা নববর্ষকে নিয়ে এই প্রেমের উৎসব বা আনন্দ কিন্তু দেখা যাত না। বাঙালিরা খুবই সাদা মাটা ভাবে কয়েকটি পুজো করত। ‘চড়ক পার্ব্বন’ নকশায় বাংলা নববর্ষের কথায় লেখা হয়েছে, ” ইংরেজরা নিউ ইয়ারে বড় আমোফ করেন। আগামীকে দাড়াগুয়া পান দিয়ে বরণ করে নেনে। আর বাঙালিরা বছরটা সজনে খাড়া চিবিয়ে ঢাকের বাদ্দি আর রাস্তার ধুলো দিয়ে পুরানকে বিদায় দেন। কেবল কলসি উচ্ছূর্গ কর্তারা আর নতুন খাতাওয়ালারাই নতুন বছরকে মনে রাখেন।” স্বভাবতই এই লেখনি থেকে বোঝা যায় হালখাতার কথাই বলা হচ্ছে। তবে সে সময় যে নববর্ষ উৎযাপনে তেমন তোড়জোর ছিল না, তাও স্পষ্ট।

তবে জানেন কি নববর্ষের সঙ্গে হালখাতার কোনও সম্পর্কই ছিল না। পরে এই হালখাতা নববর্ষের সঙ্গে যোগ হয়েছে। কিরকম সেটা? ব্যাখ্যা করে বললে, এর ইতিহাস একেবারে আদিমযুগের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষ যখন লাঙলের ব্যবহার শিখল। তখন তারা এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করল। এবং তখন চাষ করা দ্রব্যের বিনিময় প্রথা শুরু হল। এই হালের দ্রব্য বিনিময়ের হিসেবের জন্য একটি খাতায় নিজেদের মতো করে তারা লিখে রাখতে শুরু করল। সেই সময়কার ভাষায়। এবং সেই খাতারই নাম ছিল ‘হালখাতা।” হাল শব্দটি সংস্কৃত এবং ফারসি, দু’টি থেকেই এসেছে বলে দাবি করা হয়। সংস্কৃত হলে তার মানে লাঙল। আর ফারসি হলে হাল-এর মানে নতুন। তাই এই দু’টি শব্দই হালখাতার ক্ষেত্রে যথাযোগ্য।

প্রাচীণ হালখাতার অনুকরণে সম্রাট আকবর জমিদারদের বকেয়া রাজস্ব আদায়ের অনুষ্ঠান ‘পুণ্যাহ’ চালু করেছিলেন। তাই অনেকেই মনে করেন সম্রাট আকবর পয়লা বৈশাখ চালু করেছিলেন। কিন্তু তা নয়। তিনি ওই দিন রাজস্ব আদায় করতেন। এই এক নিয়ম মেনে বাংলার নবাব মুর্শীদকুলী খান ‘পুণ্যাহ’ পালন করতেন। সে সময় বহু জমিদাররা আসতেন খাজনা দিতে। নবাবি আমলে প্রাচীন হালখাতাকে ‘পুণ্যাহ’ নাম দেওয়া হয়। পরবর্তী কালে তা আবার ‘হালখাতা’-তেই পরবর্তীত হয়। সে অর্থে দেখতে গেলে হালখাতা রাজস্ব আদায়ের নাম ছিল। নববর্ষের দিনে যা পালন করা হত। আমরা এখন যে ১ লা বৈশাখকে নববর্ষ বা বছরের শুরু হিসেবে ধরি এই রীতি কিন্তু শুরু হয় ৩১৯ সালে। সেই সময় থেকেই পাঁজি গণনা শুরু হয়। এর আগে বছরের গণনা শুরু হত হিম বা শরৎ কাল থেকে। ঋতু হিসেবে বছর গণনা করেতেও দেখা যায়। তবে পঞ্জিকা গণনার সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালির পয়লা বৈশাখের শুরু না হলেও উৎসব পালনের শুরু। আর হালখাতা পয়লা বৈশাখের আর এক নাম। বর্তমান কালে এই দিন দোকানে দোকানে পুজো হয়। নতুন খাতা খোলা হয়। সামান্য কিছু দিয়েও খাতা খোলার রীতি এখনও রয়েছে। বেশ কিছু বছর ধরেই পয়লা বৈশাখ মানেই হালখাতা। নতুন বছরের শুরু। তবে ইতিহাস বলে ‘হালখাতা’ পয়লা বৈশাখের সঙ্গে জড়িয়েছে অনেক পড়ে। এর সঙ্গে সবচেয়ে প্রথম পরিচয় ঘটে বিনিময় প্রথার যুগের মানুষের। সে সময় পয়লা বৈশাখের কোনও চল ছিল না।

দ্বারা প্রকাশিত:পিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রথম প্রকাশিত:



Source

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article