31 C
Kolkata
Friday, May 7, 2021

রবি আলোকেও ঘোর তিমির, বছরভর অন্ধকারে মংপু’র রবীন্দ্র ভবন –

Must read

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘হিমের রাতে ওই গগনের দীপগুলিরে’। পাহাড়ি গ্রামে মনে হয় সারা বছরই হিম পড়ে।

পাহাড়ের কোলে এক অক্সিজেন ভরতি অঞ্চল। এখানেই মাঝে মাঝে চলে আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

কিন্তু দীপ কী জ্বলে? উত্তর , ‘না’। পাহাড়ে সন্ধ্যা নামলেই এখন রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত বাড়িতে প্রত্যেকদিন নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বলছি কার্শিয়াং-এর মংপুতে মৈত্রেয়ী দেবীর বিখ্যাত বাড়ির কথা।

বর্তমানে রবীন্দ্র ভবন নামে পরিচিত পাওয়া বাড়িটিতে বিদ্যুৎ নেই। বিল দিতে পারেনি বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।

ফল বিদ্যুৎ সংস্থা এসেছে এবং লাইন কেটে দিয়ে চলে গিয়েছে। আজ নতুন নয়। ২০১৭ সাল থেকে রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত বাড়িতে এমনই হাল। সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে ঢেকে যায় এক সময়ে রবির আলোয় আলোকিত হওয়া বাড়ি।

এই প্রসঙ্গে বাড়ির কেয়ারটেকার শিশির রাউৎ জানিয়েছেন, ‘২০০০ সালে বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য্য এই বাড়িটি লেবার এন্ড ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্টের হাত থেকে নিয়ে মিউজিয়ামের রূপে দেন। কথা হয়েছিল এটিকে রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে করে দেওয়া হবে।

তা আর পরের এগারো বছরে করা হয়নি। ২০১১, ক্ষমতায় আসে তৃণমূল।  ২০১৮ সালে আমাদের বর্তমান রাজ্য সরকার এই বাড়িটি খানিক সারিয়ে দেয়। রঙ হয় নীল সাদা।

বাড়ির মেঝে সারিয়ে দেওয়া হয় কিন্তু তার আগের বছরেই মানে ২০১৭ সালেই এর ইলেকট্রিক লাইন কেটে দেওয়া হয়। ‘state electricity board’ থেকে কেটে দিয়ে যাওয়া হয় ইলেক্ট্রিক লাইন। তারপর থেকে এমন ভাবেই চলছে।’

তাঁর আরও অভিযোগ, ‘এই বাড়ি টির ঠিকানা সিঙ্কোনা ফ্যাক্টরি নামে। ওখানকার যিনি ডিরেক্টর আছেন তিনি এটাকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন।

তো যা হবার তাই হয়েছে। তাও কিছুদিন আগে ওরাই এই মিউজিয়ামের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করে দেয়। ব্যাস ওইটুকুই। মৈত্রেয়ী দেবীর পরিবারও এই বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। তাই যা হবার তাই হয়েছে।’

চাকরির সূত্রে মংপুতে এসেছিলেন মৈত্রেয়ী দেবীর স্বামী মনমোহন সেন। তিনি সেখানকার সিঙ্কোনা ফ্যাক্টরির প্রধান কুইনোলজিস্ট ছিলেন।

বর্তমানে রবীন্দ্র ভবন নামে পরিচিতি বাড়িতে সিঙ্কোনা প্ল্যান্টেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে থাকতে দিয়েছিল কোম্পানি। কোম্পানির বাড়িতে মৈত্রেয়ী দেবী রবি ঠাকুরকে আমন্ত্রণ করেছিলেন।

কবিগুরু প্রথম মংপু আগমন ১৯৩৮ সালের ২১ মে। তারপর এই স্থানের প্রেমে পড়ে যান রবি।

১৯৩৯ সালে আসেন দুবার এই বাড়িতে আসেন। চতুর্থ ও শেষ আগমন ১৯৪০ সালে।

আরো পোস্ট- কণ্ঠে রবির গান, পাহাড়ি গ্রামে রবিস্মৃতি আগলান পালকি বাহকের পৌত্র

এলেই এখানে মাস দুয়েক থাকতেন কবি। ওই বছরে তাঁর জন্মদিনও পালন হয় এই বাড়িতেই। তো সিঙ্কনা কোম্পানির মালিকানা ছিল এই বাড়ির। কোম্পানি আছে। শুধু দায়িত্ব নেই।

ঘটনা হল বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিশ্রী ভাবে হেরেছেন। পাহাড়ের ভোট এখনও বিজেপির পক্ষে।

২০১৯ লোকসভার সাংসদ থেকে ২০২১ বিধানসভা কার্শিয়াংএ জয়ী প্রার্থী বিজেপি’র। এদিকে রাজ্যে ক্ষমতায় আবারও তৃণমূল সরকার।

রবীন্দ্র জয়ন্তী এবারেও সুন্দর ভাবে পালন করতে চায় সরকার। পাহাড়ের কোলে এই বাড়ির দায়িত্ব কে নেবে? কেউ কী নেবে? জ্বলবে আলো? সেই ‘ভোর’ এর অপেক্ষায় রবি বাড়ি।

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

Source

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article