বীরের অপমৃত্যু! শৌর্য পদকজয়ী আপসহীন যোদ্ধাকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিল দুষ্কৃতীরা…

হাইলাইটস

  • শৌর্য পদকজয়ী বলবিন্দর সিং সন্ধু নিহত
  • পঞ্জাবের তরনতারনে শুক্রবার আততায়ী হামলায় নিহত
  • দুই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ এসেছিল বাইকে চেপে
  • বাড়ির অদূরেই তাঁকে গুলি করা হয়
  • বলবিন্দর ছিলেন খালিস্তানি জঙ্গিদের হিট লিস্টে

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: পঞ্জাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি ছিলেন আপসহীন লড়াকু এক সৈনিক। সাহসিকতার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন শৌর্য চক্রে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াও একটা সময় তাঁর সাহসকে কুর্নিশ না জানিয়ে পারেনি। ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিক চ্যানেল তাঁক নিয়ে তথ্যচিত্রও তৈরি করেছিল। পঞ্জাবের সেই অসম সাহসী যোদ্ধা বলবিন্দর সিং সন্ধু শুক্রবার তরনতারন জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। এর আগেও বার কয়েক তাঁর উপর হামলা হওয়ায়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী পেতেন বলবিন্দর। মাস কয়েক হল তাঁর নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নিয়েছিল সরকার। আততায়ীরা তারই সুযোগ নেয়।

তরনতারনের গ্রামে বলবিন্দরের নিজের তৈরি একটি স্কুল রয়েছে। শুক্রবার সেই স্কুলের বাইরে বাইক আরোহী দু’জন অপেক্ষায় ছিল। বলবিন্দর সেই বিপদের আঁচ পাননি। স্কুলের দরজা খুলে ভিতরে ঢোকার মুহূর্তে পরপর কয়েক’টা গুলি তাঁকে ঝাঁঝরা করে দেয়। গুলির শব্দে গ্রামবাসীরা তড়িঘড়ি আসেন স্কুলের সামনে। রক্ত তখন ভেসে যাচ্ছে বলবিন্দরের শরীর। তার আগেই বাইক নিয়ে পালায় বন্দুকবাজরা। বলবিন্দরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ সুপার ধ্রুমান নিমবালে জানিয়েছেন, বলবিন্দরের শরীরে পাঁচটি গুলি লাগে। বাইকে চেপে এসেছিল আততায়ীরা। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে পালায়। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আততায়ীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছ পুলিশ।

শিখ যুবকদের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে ছিলেন কট্টর কমিউনিস্ট এই মানুষটি। খালিস্তানি আন্দোলনের বিরোধিতা করেন। গোটা পঞ্জাবে যখন সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়েছিল, সেসময় বলবিন্দর সিং ভিখিবিন্ড ও তাঁর পরিবার মিলে তরনতারনে নিজের গ্রামটিকে দুর্গে পরিণত করেছিলেন। স্ত্রী, সন্তান সহ গোটা পরিবারকে অস্ত্র ব্যবহার শিক্ষা দেন। বলবিন্দরের সঙ্গে তাঁরাও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সেসময় অস্ত্র ধরেন।

তিনি অসংখ্য বার হামলার মুখে পড়েন। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত জয় তাঁরই হয়। তাঁর সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে জঙ্গিরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাঁকে সৌর্য চক্র দিয়ে সম্মান জানিয়েছিল। সাধারণ নাগরিকের জন্য এ সম্মান প্রাপ্তি বিরল।

বলবিন্দরের সঙ্গে তাঁর ভাই রঞ্জিত সিং সন্ধু-ও জঙ্গি কার্যকলাপের বিরোধিতা করেছিলেন। যে কারণে ছিলেন জঙ্গিদের হিট লিস্টে। ১১ মাসের মধ্যে ১৬ বার খালিস্তানি জঙ্গিরা চেষ্টা করেছিল বলবিন্দরের পরিবারকে খতম করতে। ১০ জন জঙ্গি বাড়তে বাড়তে ২০০ জন হয়। কিন্তু, তার পরেও জঙ্গিরা ব্যর্থ হয়ে ফিরে গিয়েছে দুই ভাই এবং তাঁদের স্ত্রী জগদীশ কৌর সন্ধু ও বলরাজ কৌর সন্ধুর পরাক্রমের সামনে।

আরও পড়ুন: চিতাবাঘের হানায় শেষ ১১-র মেয়ে, এক মাসে ষষ্ঠ শিশুর মৃত্যু!

১৯৯০ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথম বার হামলা হয়েছিল। শেষবার হামলা হয়েছিল ১৯৯১ সালের ২৮ ডিসেম্বর। এর মধ্যে সবথেকে ভয়ানক জঙ্গি হামলা হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ওইদিন সন্ধু পরিবারের গোটা বাড়ি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেছিল ২০০ জঙ্গি। রকেট লঞ্চার-সহ প্রাণঘাতী অস্ত্রে ৫ ঘণ্টা ধরে হামলা চালিয়ে গিয়েছিল জঙ্গিরা। বলবিন্দররা সরকারের দেওয়া স্টেনগান এবং পিস্তল নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা লড়াই করে প্রাণে বাঁচেন। নিজের বাড়ির ছাদে বাঙ্কার তৈরি করেছিলেন বলবিন্দর। সে কারণেই শৌর্য চক্র পুরস্কার পান।

আরও পড়ুন:পুজোয় এবার আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিতে পারে বৃষ্টি! কী বলছে আবহাওয়া দফতর?

পুলিশ সুপার ধ্রুমান নিমবালে জানান, এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে। বরাবরই সন্ত্রাসবাদীদের নিশানায় ছিলেন বলবিন্দর। তাঁর বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষীও মোতায়েন রেখেছিল রাজ্য পুলিশ। গত বছরই তা তুলে নেওয়া হয়।

তাঁর পরিবার জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে একাধিক বার প্রাণের হুমকি পেয়েছিলেন বলবিন্দর। তাঁকে খুন করার চেষ্টা আগেও হয়েছিল। পুলিশ জানাচ্ছে, বলবিন্দরের হত্যার পিছনে খালিস্তানি জঙ্গিদের হাত রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন

Leave a Comment

%d bloggers like this: