নিভল বহুতলের আগুন, কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ১২-র কিশোর-সহ মৃত ২

হাইলাইটস

  • কলকাতার বহুতলে আগুন
  • আগুন গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ এলাকার এক বহুতলে
  • অগ্নিকাণ্ডের জেরে মৃত ২
  • বাড়িটির সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে
  • অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার বৌবাজার এলাকার একটি বহুতলে অগ্নিকাণ্ডে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ গণেশচন্দ্রে অ্যাভিনিউয়ের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। পাঁচতলা ওই বাড়িটির নীচতলায় আগুন লাগায় অনেকেই আটকে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত দমকল কর্মীদের তত্‍‌পরতায় আগুনে আটকে পড়া সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। ভোররাতে তিনি জানান, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। বাড়িটিতে আটকে পড়া প্রত্যেককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধারকারীরা জানান, বারো বছরের এক কিশোরী ও এক বৃদ্ধা মারা গিয়েছেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ভয়ে চারতলা থেকে ঝাঁপ মারে ওই কিশোর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে, কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই কিশোর মারা যায়। ওই বহুতলের একটি শৌচালয় থেকে এক বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার করেছেন দমকল কর্মীরা। ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়েই বৃদ্ধা মারা গিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। বাড়িটির আরও দুই বাসিন্দাও আগুনে জখম হয়েছেন। তাঁরাও হাসপাতালে ভর্তি।

দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পাঁচতলা বাড়িটির দোতলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। অন্যান্য তলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সুজিত বসু জানিয়েছেন, বাড়িটির আগুন নিভে গিয়েছে। প্রচণ্ড উত্তাপে ভবনটির ক্ষতি যাতে না হয়, জল দিয়ে ক্রমাগত ঠান্ডা করা হচ্ছে।

দমকল সূত্রে খবর, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ৩১ নম্বর গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ে একটি বহুতলে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ১০টি ইঞ্জিন। দমকলের পদস্থ আধিকারিকরাও পৌঁছে যান। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, পাঁচ তলা বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরের মিটার ঘর থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত্‍‌। সেখান থেকেই আগুন দ্রুত উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের উত্‍‌পত্তি বাড়িটির দ্বিতীয়তল থেকে। এর আগে মধ্য কলকাতার পোলক স্ট্রিট ও হেয়ার স্ট্রিটের সংযোগস্থলের একটি বহুতলে আগুন লেগেছিল। ভবনটিতে ছিল একাধিক সংস্থার অফিস।

হাইড্রোলিক ল্যাডারে করে চলছে উদ্ধারকাজ…

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে হাজির হন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। চলে আসেন ফিরহাদ হাকিমও। আগুন যে ভাবে বাড়ছিল, তাতে আশপাশের বাড়ি ও সংলগ্ন একটি বস্তিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তত্‍পরতায় আগুন বাড়তে পারেনি।

আরও পড়ুন: রাতের কলকাতায় ফের বহুতলে অগ্নিকাণ্ড! কয়েক জন এখনও আগুনবন্দি, মৃত ২

দমকলের এক আধিকারিক জানান, ঘটনাস্থলে ভোররাত পর্যন্ত ২৫টি ইঞ্জিন আসে। এ ছাড়াও একটি হাইড্রোলিক ল্যাডার ছিল। এই ল্যাডার দিয়েই বাড়ির ভিতরে আটকে পড়া সকলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও প্রাথমিক তদন্তে শর্টসার্কিট বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন

Leave a Comment

%d bloggers like this: