কোভিড বিধি শিকেয় তুলে সবুজ-মেরুন জনতা বলছে, মনখারাপের ওষুধ ‘মোহনবাগান’

এই তো গত রবিবারের কথা… করোনা বাউন্সারকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে স্লগ ওভারে ঠাসাঠাসি করে পুজোর কেনাকাটা চলছে নিউ মার্কেট থেকে হাতিবাগানে। শপিং মলের ভিড়কে টেক্কা দিয়ে বাঙালির পুজোর বাজার করার সেই চেনা ছবি, সেই চেনা ভিড়।

উৎসবের জন্য ভিড় করে কেনাকাটা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিবাদ মিছিল হচ্ছে, ভিড় বাসে ঠাসাঠাসি করে মানুষ কাজ করতেও বেরোচ্ছে। লোকাল ট্রেন পরিষেবা আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া প্রায় সব কিছুই এখন নিউ নর্ম্যাল।

কলকাতায় এখন প্রাক-পুজোর আমেজ। তারই মধ্যে ফুটবল উত্সব। একে রামে রক্ষে নেই সুগ্রীব দোসর! মার্চ মাসেই করোনার আবহে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় মোহনবাগান। কিন্তু মারণ ভাইরাসের কারণে সব উৎসব, আনন্দ, আবেগ ছিল মাস্কে ঢাকা। দ্বিতীয়ায় তিলোত্তমার আকাশে সবুজ-মেরুন ঢেউ। আই লিগ ট্রফি তুলে দেওয়া হল চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগানের হাতে.. আর তার পরেই আবেগের বিস্ফোরণ মোহন সমর্থকদের। জনসমুদ্র! শহরের রাজপথে রাজত্ব করল সবুজ-মেরুন স্পর্ধা!  

তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ট্রোল হতে থাকল একের পর এক শোভাযাত্রার বাঁধনছাড়া উল্লাসের ছবি। করোনা উদ্বেগে সামাজিক দূরত্বের বিধি-নিষেধ শিকেয় তুলে এ কোন আবেগের বিস্ফোরণ! ছবিটা দেখে হয়তো সত্যিই ভয় লাগছে! পুজো তো দূর অস্ত… মোহনবাগানের আই লিগ জয়ের গ্র্যান্ড সেলিব্রেশনে যা হল, সেটা কি ঠিক হল? শয়ে-শয়ে বাইক মিছিল, পথে নেমে জয়োল্লাস। সবুজ-মেরুণ সমর্থকদের সাত মাসের পুঞ্জীভূত আবেগের বহিঃপ্রকাশ কি আগমণীর সুরে সাদরে করোনাকে আবাহন করল? প্রশ্ন উঠছে। (সতেচন) শহরবাসীর প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।

প্রশ্ন উঠছে, এই সময়ে এরকম হই-হুল্লোড়ের কি সত্যিই দরকার ছিল? ক্লাব কর্তারাই বা সমর্থকদের সংযত থাকার নির্দেশ দিলেন না কেন? অনেকে বলছেন, আবেগ বলবেন না, এটা প্রচণ্ড পরিমাণে একটা বোকামি। আবেগের উন্মাদনায় মাতোয়ারা কিছু মানুষের জন্য বাকিদের যে ভুগতে হবে।

যে হাতিবাগানের ওপর দিয়ে আজকের শোভাযাত্রা গিয়েছে ভর দুপুরে , সেখানেই রোদ পড়ার আগেই হাতে হাত ধরে ঠাসাঠাসি বিকিকিনির আসর। পুজোর কেনাকাটায় মশগুল, মুখ থেকে মাস্কটা কখন নেমে গেছে খেয়ালই নেই! … সেখানে মোহনবাগানের ট্রফি জয়ের শোভাযাত্রা কি এমন ক্ষতি করবে!

ঘরেন্টাইন মানুষগুলো স্যানিটাইজার, সোশ্যাল ডিসটেন্স শব্দগুলো একটু সরিয়ে হয়তো মাস্ক খুলে কিছুক্ষনের জন্যে ভুলে গিয়েছিল করোনা নামের এক দুষ্টু ভাইরাসের জ্বালাতনের কথা। অসুখ অন্ধকারে আশার (সুখের) আলো হয়ে হয়তো গেয়ে উঠল, বুকের এই কলজে বলে, লড়াই কর হার না মানা …. আমরাই মোহনবাগান।
 
শোক মানুষকে পাথর করে দেয়। আর আবেগ সেই পাথরকে নাকি গলিয়ে দিয়ে যায়! মোহনবাগান-প্রজন্মের পর প্রজন্ম, একটা জাতির শেষ সম্বল। শেষ ভরসা। হার না মানা লড়াইয়ের মন্ত্র। এখনও অনেকে কাছের মানুষকে হারানোর শোক ভুলে যায় মোহনবাগান জিতলে। এখনও বহু মানুষ প্রিয়জনকে হারিয়ে কাছা পরেও মোহনবাগানের আই লিগ জয়ের সেলিব্রেশন র‍্যালিতে নিজেদের ক্ষত সারিয়ে নেয়। তাই তাঁরা বলছেন, মোহনবাগান-হল মনখারাপের ওষুধ। মারণ ভাইরাসের শিলমোহরহীন ভ্যাকসিন।

প্রসঙ্গতঃ এমন দিনেই হুঁশিয়ারি দিল কেন্দ্র। উত্সবের ভিড় আর শীতে সতর্ক না হলে মহাবিপদ, ফের লাফিয়ে বাড়বে সংক্রমণ।

Leave a Comment

%d bloggers like this: