31 C
Kolkata
Friday, May 7, 2021

করোনায় মৃত্যুনগরী মুম্বই, ২৪ ঘণ্টা কবর খননের কাজ করে চলেছেন ওঁরা – Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal’s Leading online Newspaper

Must read

মুম্বই : করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাবু গোটাদেশ। দিন যত যাচ্ছে ততই উত্তরোত্তর বাড়ছে সংক্রমণের দাপট। স্বস্তি নেই। চারিদিকে অক্সিজেন, বেডের আকাল। অব্যাহত মৃত্যু মিছিল। দেশের দৈনিক সংক্রমণের রেশ ইতিমধ্যে চার লাখের ঘরে পৌঁছেছে। এই অবস্থায় দিনরাত এককরে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন দেশের প্রথম সারির করোনা যোদ্ধারা চব্বিশ ঘণ্টা নাওয়া খাওয়া ভুলে প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া তাঁরা।

তবে শুধু ডাক্তাররা নন, করোনার মৃত্যু মিছিলে দিনরাত এককরে কাজ করে চলেছেন মুনির কামরুদ্দিনরা। যদিও ওই কেউই চিকিৎসক নয়, প্রাণ বাঁচাতে পারে না। তবে শেষযাত্রায় মানুষকে সমাধিস্ত করতে ওদের ভূমিকা কোনও অংশে কম নয়।

মারণ করোনার দ্বিতীয় ছোবলে যখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে দিল্লি ,মুম্বই ঠিক তখনই সারাদিন ক্লান্তিহীন শরীরে করোনায় মৃত মানুষদের সমাধিস্ত করতে কবর খুঁড়ে চলেছেন ওঁরা। সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাকালেই এখন দুটো ছবিই চোখের সামনে ভেসে উঠবে। তা হল, হাসপাতাল গুলিতে ঠাঁই নেই রোগীদের রাখার অন্যদিকে শ্মশানে, গোরস্থানে করোনায় মৃত মানুষের শেষকৃত্যের জন্য লম্বা লাইন।

যদিও অদৃশ্য এই করোনাকে এখন আর ভয় পান না ৫২ বছরের কামরুদ্দিনরা। গত ২৫ ধরেই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত তাঁরা। তবে ২০২০ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত এত মানুষের মৃত্যু মিছিল একবারে কখনও দেখেছেন কিনা মনে করতে পারছেন না ওই প্রৌঢ়৷

এদিন তিনি জানান, করোনায় যেভাবে মানুষ মারা যাচ্ছেন তাতে কবর খোঁড়ার জন্য ২৪ ঘন্টায় তাঁদের কাজ করে যেতে হচ্ছে। গোরস্থানের বাইরে শেষকৃত্যের লম্বা লাইন। অবসর নেওয়ার মতো ফুরসত নেই। শুধু তাই নয়, গত তিন চার মাসে সারাদেশে যেভাবে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে তাতে এখন আর করোনাকে ভয় পান না তাঁরা৷ সাহসের সঙ্গে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের কবরের মাটি খুঁড়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

একই অবস্থা রাজধানী দিল্লিতেও। চারিদিকে শুধুই হাহাকার আর মৃত্যু মিছিল। শ্মশান গুলির বাইরে দাহ করার জন্য শবের লাইন। অ্যাম্বুলেন্সগুলি দেহ নামিয়ে দিয়ে ফের ছুটে চলেছে আরও মৃতদেহ নিয়ে আসতে। যেন শ্মশানে লাট পড়েছে মরা পোড়ানোর। এদিকে সুষ্ঠভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করারও সময় নেই। কাঠের অভাব। মরা পোড়ানোর জায়গার অভাব। ফলে রাজধানীতে নতুন করে খোঁজা হচ্ছে শবদেহ দাহ করার জায়গা।

এই বিষয়ে কামরুদ্দিন আরও জানিয়েছেন, করোনার কারণে গত একবছর ধরে কোনও ছুটি মেলেনি তাঁদের। তিনি ও তাঁর সহকারী ঘড়ির কাঁটার থেকেও দ্রুত কবর খোঁড়ার কাজ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। এমনকি গত একবছর ধরে তাঁদের একমাত্র কাজই হল অ্যাম্বুলেন্স থেকে শবদেহগুলি নামিয়ে সেগুলি গোরস্থানে কবর দেওয়া।

আর এখন তাঁদের পবিত্র রমজান মাস চললেও রোজা রাখার সময় নেই। সারাদিন মাটি কেটে পেটে দানাপানি না পড়লে যে এত মানুষকে সমাধিস্ত করা মুশকিল হয়ে যাবে। ফলে কী করে রাখবে রোজার উপোস? জানিয়েছেন কামরুদ্দিন৷

যদিও এই কামরুদ্দিনদের জন্য সরকারের তরফে কোনও সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয়নি। সরকারি সাহায্যের আশাও করেন না তাঁরা। নিজের বিশ্বাস আর মনের জোরেই খেটে খাচ্ছেন তাঁরা।

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

Source

- Advertisement -spot_img

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article